‘Hello Kolkata Chronicle’ (multi-lingual Sunday supplement) was published on 7th June, 2026, along with HELLO EVENING KOLKATA main paper.
A few of the creative compositions are hereby posted here.
সময় খুব খারাপ
-উজান
সময় খুব খারাপ …
কাউকে বিশ্বাস করার মতো
পরিস্থিতি নেই …নিশ্বাসে প্রশ্বাসে বিষ…
সারাদিন রাত হেঁটেও পা দুটো
সেই পথেই হোঁচট খায় বার বার
তবুও হাঁটতে হয় বাঁচার জন্য …
পায়ের নিচের মাটি টুকু হারানোর ভয়ে
আমি চাঁদ ধরতে চাইনি কখনও …
রাত পোহাতেই কুয়াশার মতো
নীরবে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে
আমি নীল রাত জেগে থাকি আজীবন …
ইহ জন্ম পর জন্ম না ভেবে
জীবনের সাথে পা মেলাই
যতো দিন আছি পৃথিবীর বুকে …
…………………………..
আনন্দ চিঠি
–শ্যামল বিশ্বাস
তোমাকে কি বলে সম্মোধন করব আনন্দ ! না আনন্দদা !
আজ চার মাস হতে চলল তোমার কোনো খবর নাই। সুস্থ না অসুস্থ তাও জানি না ।
এর মধ্যে তোমাদের বাড়িতে গিয়ে ছিলাম। মাসিমা ও মেসো মশাই তোমারও কোনো খবর দিতে পারলেন না । আমার মতো তারাও চিন্তিত।
আমার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে। অনার্স পেয়ছি তবে যা ভেবেছিলাম তা আর হয় নাই। তার জন্য কিছুটা তুমি নিজেই দায়ী। পরীক্ষার সময় অনেকটাই তোমার পিছনে দৌড়ঝাঁপ করছি। কলেজে যাওয়ার সময় তোমাকে দেখতে না পেয়ে ক্লাস অফ করে তোমায় খুঁজতে লাইব্রেরিতেও গিয়েছি । শুধু দেখতে একটি বার তোমাকে। তুমি কলেজে এসেছ কিনা ! পরীক্ষার আগে অনেক বার আমাকে এরকম করতে হয়েছে শুধু তোমাকে একটি বার দেখব বলে। তোমাকে দেখার পর আমার মন একদম শান্ত হয়ে যেতো ।
জানি না এটা কিসের ইঙ্গিত ছিল। বাড়িতে এসেও বই পড়তে ভাল লাগতো না। মা একদিন বলেই ফেলল আমাকে কেন শুকনো শুকনো দেখাচ্ছে ? ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছিস না জানতে চায়।
এই চিঠি আমি আরতির কাছে দিয়ে এলাম। যখন তোমার সাথে তার দেখা হবে তখন দিতে বলেছি।
আমি তোমাকে যতটা বুঝতাম তার এক সিকিও আমাকে তুমি বুঝলে না বা কখনো চেষ্টা কর নাই । প্রথম যেদিন তোমাদের বাড়িতে গেলাম। ভেবেছিলাম তোমাকে নিজের মতো করে পাব। তোমাকে যে আমি ভালোবাসতে শুরু করে ছিলাম । আপন করে ভেবেছিলাম পেতে। কখন যে আমার মনে এমন রুপান্তর হল আমই নিজেই জানি না । একে মনে হয় প্রেম বলে। যা শুধুই ভালোবাসার আদি অন্ত। গঙ্গা যমুনার মতো। কথা বলে আসে না। কখন যে সে নিভৃতে এসে পড়ে , আগাম কোনো খবর না দিয়ে চলেও যায়।
আমার ভালোবাসা বা প্রেম যে এভাবে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে । ভাবতেই পারছি না । এই প্রেম কি এক তরফের ? জানতে ইচ্ছা করছে !
আমি আজও ঠিক মতো তার মূল্যায়ন করে উঠতে পারি নাই ।
যদি তুমি সাড়া দিতে আজ আমার জীবনটা হয়তো অন্যখাতে বহে চলতো শান্ত নদীর স্রোতের মতো ।
তবে শোন আগামী সপ্তাহে আমরা সবাই মিলে ভিলাই যাচ্ছি। বাবার এক বন্ধু নিতীশ সমাদ্দার থাকেন সেখানে। আগে আমাদের পাড়ায় বাড়ি ছিল। সব ছেড়ে ওখানে বাড়ি করে পাকাপাকি বাসিন্দা হয়ে গেছেন।
নিতীশ কাকু বাবাকে বার বার যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।
কানাঘুষোয় খবর পেয়েছি কাকুর এক মাত্র ছেলে সাগ্নিক পাঁচ মাসের মধ্যে বিদেশে যাবে ছয় বছরের জন্যে। সাগ্নিক আমার থেকে পাঁচ বছরের বড়। শুনেছি বড় এক কম্পানিতে কাজ করে। ভাল চাকুরি ভাল পয়সা পায়।
মাস তিনেক আগে নিতীশ কাকুও কাকিমা সাধনা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আমাকে কাকু কাকিমার বেশ পছন্দ। সেই জন্য নাকি যাওয়া।
মাকে ডেকে একদিন বললাম। –এখন নই গেলে হতো না !যাওয়ার দরকার নাই। মাষ্টার ডিগ্রির অ্যাডমিশনের জন্য এখন আমাকে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।
–মোটে তো দশদিনের জন্য যাব । তোর অ্যাডমিশনের এখনও এক মাস বাকি।
–তো !
–যেতে হবে। তোর বাবা বলছিল তার রিটার্ডমেন্টের সময় এসে গেছে। তাই আমরা ভাবলাম তোকে যদি ঠিক সময় পাত্রস্থ করতে পারি। পরে নীলুর জন্য পরে ভাবা যাবে । তুই অন্যথা করিস না। ভালো ছেলে পেতে গেলে অনেক অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আবার আমাদের পালটি ঘর হবে কিনা সেটাও দেখতে হয়।
আমি একটা কথা বলি শোন। এটার জন্য তোর বাবাকে আর কিছু বলার দরকার নাই। লোকটা চিরকাল সংসারের জন্য খেটে মরল। তবুও তোকে ও নীলুকে পড়ানোর জন্য কি না করেছে। একার চাকুরি। যা বেতন পায় সবই তো সংসারে লেগে যায়। তুই একটু ভেবে দেখিস ?
এ মতো পরিস্থিতিতে আমি গভীর জলে পড়ার মতো। কি করব ! ভেবে কোনো রাস্তা পাচ্ছি না। তুমি, আনন্দ কাছে থাকলে কিছু করা যেতো। সে পথও বন্ধ । আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব।
একদিন সত্যি আমি বোন মা বাবা ভিলাই পৌঁছে গেলাম এক বিকেল বেলায়।
আমাকে বিশেষ করে হেড মাষ্টারের মেয়েকে দেখে ওরা খুশি।
সাগ্নিকের সাথে আমার অনেক্ষণ কথা হল। ও উচ্চতায় মনে হয় আমার চেয়ে একটু বড়। ছওড়া কাঁধ। মনে হয় জিমে যাওয়ার আসার অভ্যাস আছে।
— হাই !
–হাই ! আমিও বললাম।
দুই একটা কথা বলার পর আমি আমার পড়ার কথা বললাম।
বেশ চিন্তা ভাবনা করে বলল
–যদি তোমার আমার বিয়ে হয় ইন্ডিয়াতে তোমার পড়াশুনা হবে না। ওখানে গিয়ে তুমি মাষ্টার ডিগ্রি অনায়াসে করতে পারবে। তাছাড়া একলাই বা ঘরে বসে তুমি কতক্ষণ চুপচাপ থাকবে। একটা কিছু নিয়ে থাকলে সময় কাটবে । ওখানে পড়াশুনার অনেক পথ আছে ।
এখন দেখ মাষ্টার মশাই , তোমার মা ও আমার মা বাবা কি করে।
— তোমার নিজের মত !
–এখনই জানতে চাচ্ছ! মনে হচ্ছে তুমি ডাইরেক্ট কথা বেশী পছন্দ কর।
–হাঁ । কিছুটা।
–এটা জীবনের বড় এক এবং সুন্দর একটা ক্যারেক্টার । আমি অ্যাপ্রেসিয়ট্ করি। কিন্তু আমি আর তোমাকে জিজ্ঞাসা করে বিরক্ত করতে চাই না । তোমার মত আছে কিনা!
তুমি যেটা ভাল মনে করবে তা বড়দের বলে দিও। পরিষ্কার করে কথা বলা আমিও পছন্দ করি ।
–আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।
–কি ? ও বুঝতে পেরেছি। দেখ আমি আমার মা বাবার এক মাত্র ছেলে। ওরা আমার জন্য সব কিছু করেছে। এখানে এসে বাড়ি করা। আমাকে ভালো স্কুলে পড়ানো। বেঙ্গালুরুর ভাল কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি। ভাল চাকুরি করি । ও সবের পিছনে তাদের হাত আছে। আর কিছু জানতে চাও !
–না !
–আর একটা কথা তোমাকে নিয়ে আজ বিকালে ভিলাই শহর ও আসপাসে একটু ঘোরার জন্য যেতে বলেছে। তুমি কি যাবে!
–যাবো।
–প্রস্তুত থেক । সন্ধ্যা ছয়টার বের হব ।
বিদিশা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
— মা। আসছি।
কিছুক্ষণ পরে মোটর সাইকেলের আওয়াজ শুনলো। সাগ্নিক মনে হয় কোথাও গেল ।
এখানে তোমাকে একটা কথা বলি। তোমাদের ছেলেদের যতখানি স্বাধীনতা । আমাদের ক্ষেত্র সেটা অনেকটা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর হঠাৎ যেমন না বলতে পারি না সেই রকম সময় বিশেষে হাঁ ও বলতে পারি না।
আনন্দ আমি সত্যিই পাগল হয়ে যাব। মনের মধ্যে অসংখ্য দ্বিধা সাথে দুঃচিন্তা।
বার বার গানের লাইন মনে পড়ছে।
“কে আছ মোরে এ অধমেরে,
বাঁচাও আমার হাত দুটি ধরে।
কি করি আমি পথ যে না পাই,
অন্ধকার শুধু দেখতে আমি পাই।”
এ চিঠি যখন তুমি পাবে।
আমি তখন অনেক দূরে ! !
ক্ষমা করে দিও আনন্দ আমাকে এক পাগলি বলে।
যদি পার আরতিকে জীবন সাথী করে নিও ।
–ইতি,
বিদিশা
