কলকাতা, ৩১ অক্টোবর, ২০২৬: বাঙালির নিজস্ব সৃষ্টি, সংস্কৃতি ও কৃষ্টির ঐতিহ্য অটুট রাখতে বরাবরই সচেষ্ট ‘ভূতের রাজা দিল বর’। বাঙালির প্রায় হারিয়ে যেতে বসা নানা প্রথা ও লোকাচারকে নতুন প্রজন্মের সামনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই সংস্থার এই বিশেষ উদ্যোগ। সেই ভাবনা থেকেই ৩১ অক্টোবর, শনিবার, দুপুর ৩টেয় সল্টলেকের সেক্টর ফাইভে ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর প্রাঙ্গণে আয়োজিত হল এক অভিনব ভৌতিক অনুষ্ঠান।
সংস্থার কর্ণধার রাজীব পালের কথায়, “আজকের প্রজন্মের মধ্যে হ্যালোউইন নিয়ে যতটা মাতামাতি দেখা যায়, তার সিকিভাগ ধারণাও ভূত চতুর্দশী সম্পর্কে অনেকের নেই।” তাঁর মতে, বাঙালির নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে নতুন প্রজন্মের পরিচয় করিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। সেই লক্ষ্যেই হারিয়ে যেতে বসা বাঙালির প্রথাগুলিকে পুনরুজ্জীবিত করার সংকল্প নিয়েছে ‘ভূতের রাজা দিল বর’।
অনুষ্ঠানে ভূতকে ঘিরে নানা গা ছমছমে, রোমহর্ষক অথচ মজাদার কাহিনি পরিবেশনের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশ করে বিশেষ ‘ভূতের থালি’। সেই সঙ্গে ভূতের নামাঙ্কিত একাধিক অভিনব পদ ও বিশেষ খাদ্যতালিকা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানের আকর্ষণ বাড়াতে উপস্থিত ছিলেন ভূত বিশেষজ্ঞরা। এমনকী ব্রহ্মদৈত্য ও গেছো ভূতের উপস্থিতিও অনুষ্ঠানে তৈরি করে এক অন্যরকম ভৌতিক আবহ।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৩১ অক্টোবর থেকে আগামী ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর সমস্ত শাখায় মিলবে ভূতের হাতে পরিবেশিত ভূতের নানা পদের স্বাদ নেওয়ার বিশেষ সুযোগ। বাঙালির লোকসংস্কৃতি, ভূতুড়ে কাহিনি এবং অভিনব খাদ্যসম্ভারের মেলবন্ধনে এই আয়োজন যে ভোজনরসিকদের পাশাপাশি সংস্কৃতিপ্রেমীদেরও আকৃষ্ট করবে, তেমনটাই আশা উদ্যোক্তাদের।
হ্যালোউইনের বিশ্বজনীন উন্মাদনার মাঝেও বাঙালির নিজস্ব ভূত চতুর্দশী ও লোকঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই ‘ভূতের রাজা দিল বর’-এর এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
ছবি সৌজন্য: চিত্ততোষ রায়





