কলকাতা, ১ অক্টোবর: “সব খেলার সেরা বাঙালির তুমি ফুটবল”—এই আবেগকে সামনে রেখে উত্তর কলকাতার মানিকতলা বিধানসভা এলাকার দেশবন্ধু পার্ক ফুটবল ময়দানে অনুষ্ঠিত হল রাজ্যস্তরীয় সিআইএল কাপ নকআউট ফুটবল টুর্নামেন্ট। ২৯ ও ৩০ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ও বুধবার, দু’দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় মোট ১৬টি পুরুষ দল উৎসাহ-উদ্দীপনার সঙ্গে অংশগ্রহণ করে। মূলত ১৪ থেকে ২০ বছর বয়সী তরুণ ফুটবলাররা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়।
বর্তমান সময়ে ইমারতির ভিড় এবং মোবাইলের পর্দায় যুবসমাজের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে বহু খেলার মাঠ কার্যত ফাঁকা হয়ে পড়ছে। সেই পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মকে মাঠমুখী করা এবং ফুটবলের প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের আর্থিক সহযোগিতায় এবং ‘ব্যাক টু ভিলেজ’-এর বাস্তবায়নে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে স্থানীয় সহযোগী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে লোকভৃত ফাউন্ডেশন।
প্রান্তিক এলাকার তরুণ ফুটবল প্রতিভাদের সামনে তুলে আনা এবং তাঁদের জাতীয় স্তরে খেলার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের অন্যতম উদ্দেশ্য। কোল ইন্ডিয়া লিমিটেডের সহযোগিতায় রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সিআইএল কাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে, যাতে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান খেলোয়াড়রাও ফুটবলে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ পান।
দু’দিনের প্রতিযোগিতার ফাইনালে বেলগাছিয়া মৃত্যুঞ্জয় ধাম ও বেদান্ত কলেজ মুখোমুখি হয়। নির্ধারিত সময়ের খেলায় লড়াইয়ের পর ম্যাচের নিষ্পত্তি হয় ট্রাইবেকারে। সেখানে ৪-২ গোলে জয় পেয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় বেলগাছিয়া মৃত্যুঞ্জয় ধাম। রানার্স-আপ হয় বেদান্ত কলেজ। ফাইনাল শেষে বিজয়ী ও বিজিত দলের হাতে ট্রফির পাশাপাশি নির্ধারিত পুরস্কারের অর্থমূল্য তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিভাস মজুমদার, গোপাল সাহা, বিশিষ্ট সমাজসেবী প্রীতম চক্রবর্তী, নয়ন সরকার, শান্তনু ব্যাপারী-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। টুর্নামেন্টটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনায় সহযোগিতা করে কল্যাণনগর স্পোর্টিং ক্লাব। এলাকার বিশিষ্টজনেরা মাঠে উপস্থিত থেকে তরুণ খেলোয়াড়দের উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা দেন।
ছাত্র সমাজের সম্পাদক প্রীতম সরকার বলেন, “তরুণ খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পাশাপাশি তাঁদের প্রতিভার উন্মেষ ঘটাতেই সিআইএল কাপের আয়োজন করা হয়েছে। পরবর্তীতে এখান থেকে প্রান্তিক এলাকার ছেলেরা যাতে জোনাল পর্যায়ে জয়ী হয়ে ফুটবলে নিজেদের কেরিয়ার গড়ে তোলার সুযোগ পায়, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”

