মোল্লা জসিমউদ্দিন, হলদিয়া: প্রান্তিক স্তরে দ্রুত ও সাশ্রয়ী বিচারব্যবস্থা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে হলদিয়ায় অনুষ্ঠিত হল মিডিয়েশন বা মধ্যস্থতা নিয়ে বিশেষ সচেতনতা শিবির। শনিবার দুপুরে পূর্ব মেদিনীপুর জেলার হলদিয়ার কুমারচন্দ্র জানা অডিটোরিয়ামে কলকাতা হাইকোর্টের মিডিয়েশন অ্যান্ড কনসিলিয়েশন কমিটির পরিচালনায় এই সচেতনতা শিবিরের আয়োজন করা হয়। শিবিরে সহযোগিতা করে জেলা আইনি পরিষেবা কর্তৃপক্ষ।
সুপ্রিম কোর্টের ‘মিডিয়েশন ফর দ্য নেশন ৩.০’ প্রকল্পের অধীনে ‘মাইক্রো লেভেল মিডিয়েশন অ্যাওয়ারনেস প্রোগ্রাম’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন দুই বিচারপতি দেবীপ্রসাদ দে ও মধুমতী মৈত্র, জেলা জজ জীবন কুমার সাধু, হাইকোর্টের মিডিয়েশন কমিটির মেম্বার সেক্রেটারি সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নবনীতা নন্দী, মিডিয়েশন সেন্টারের ওসি ড. শুভাশিস মুহুরী এবং জেলা আইনি পরিষেবা কেন্দ্রের সচিব সুদীপা ব্যানার্জী-সহ প্রশাসন ও পুলিশের আধিকারিকরা।
এদিন জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের পাশাপাশি তমলুক ও হলদিয়া আদালতের আইনজীবী, ল-ক্লার্ক, আইনের পড়ুয়া এবং আইসিডিএস কর্মীদের উপস্থিতিও ছিল উল্লেখযোগ্য। শিবিরে সাধারণ মানুষের কাছে মধ্যস্থতা ব্যবস্থার সুবিধা ও কার্যকারিতা তুলে ধরার পাশাপাশি মামলার দ্রুত নিষ্পত্তিতে এর ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করা হয়।
মিডিয়েশন কমিটির ওসি ড. শুভাশিস মুহুরী এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর নবনীতা নন্দী জানান, মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সমাধানে পৌঁছনো সম্ভব। এর ফলে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পরিবর্তে দ্রুত এবং তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ীভাবে বিরোধের নিষ্পত্তি করা যায়।
জানা গিয়েছে, কলকাতা হাইকোর্ট-সহ নিম্ন আদালতগুলিতেও গুরুতর ফৌজদারি মামলা বাদে বহু ধরনের মামলায় দুই পক্ষের সম্মতির ভিত্তিতে মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ রয়েছে। প্রান্তিক স্তরে এই ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি হলে সাধারণ মানুষও দ্রুত ও বিকল্প উপায়ে আইনি বিরোধের সমাধানের সুযোগ পাবেন বলে মনে করছেন আয়োজকরা।



