ট্যাগলাইন: “কেন সে বোঝে না”
কলকাতা, ২৮ আগস্ট ২০২৬: আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে যোগাযোগের অগণিত পরিসর উন্মুক্ত হলেও মনের অন্তর্গূঢ় অনুভূতিগুলিকে প্রিয় মানুষের কাছে যথাসময়ে ব্যক্ত করে ওঠা যেন ক্রমশই দুরূহ হয়ে উঠছে। ভালোবাসা, বন্ধুত্ব, স্বপ্ন, প্রতিশ্রুতি ও পারস্পরিক সম্পর্কের বহুমাত্রিক টানাপোড়েনে মানুষ কখনও কখনও নিজের অন্তর্লোকের সঙ্গেই বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। আর অনুভূতির সেই অব্যক্ত স্বর যখন প্রকাশের দ্বারপ্রান্তে এসে পৌঁছয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই সময় তার নিজস্ব নির্মম পরিণতি নির্ধারণ করে ফেলে। এমনই এক অনুচ্চারিত প্রেম, অসম্পূর্ণ সম্পর্ক, অনুশোচনা ও সময়ের অন্তর্নিহিত নিষ্ঠুরতার আবহে নির্মিত নতুন বাংলা চলচ্চিত্র ‘সে তো আজও বোঝে না’।
রন রাজের পরিচালনায় নির্মীয়মাণ এই ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সোহম চক্রবর্তী, প্রিয়াঙ্কা সরকার, দেবাশীষ মণ্ডল এবং বিবৃতি চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ। ছবির সঙ্গীতায়োজনে থাকছে বিশেষ চমক। সংগীত পরিচালনার গুরুদায়িত্ব সামলেছেন বিশিষ্ট সুরকার জিৎ গাঙ্গুলী।
সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে ছবিটির বহুল প্রতীক্ষিত ফার্স্ট লুক, যা ইতিমধ্যেই দর্শকমহলে কৌতূহলের সঞ্চার করেছে। পোস্টারে একটি লাল গোলাপ—কখনও আড়ালে সংরক্ষিত, কখনও বা দুই হাতের মুঠোয় সযত্নে আগলে রাখা। সেই গোলাপ যেন এমন এক ভালোবাসার প্রতীকী প্রতিরূপ, যা হৃদয়ের গভীরে দীর্ঘকাল জীবিত থেকেও যথাসময়ে প্রিয় মানুষটির কাছে পৌঁছতে পারেনি। কেন্দ্রীয় চরিত্রের চোখেমুখে প্রতিফলিত হয়েছে ভালোবাসা, অভিমান, প্রতীক্ষা, দ্বিধা এবং দীর্ঘদিনের অবদমিত যন্ত্রণার এক মর্মস্পর্শী অভিঘাত।
ছবির কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে মৈনাক। একেবারে সাধারণ জীবনযাপন থেকে উঠে আসা এই যুবকের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুই মানুষ—মেঘলা ও জাহির। বন্ধুত্বের আবরণে আবৃত সম্পর্কের অন্তরালে মেঘলার প্রতি মৈনাকের হৃদয়ে ধীরে ধীরে জন্ম নেয় গভীর অনুরাগ। কিন্তু সেই অনুভূতিকে প্রকাশ করার মতো মানসিক দৃঢ়তা ও সাহস সে অর্জন করতে পারে না। সময় তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলে। পরিবর্তিত হয় সম্পর্কের সমীকরণ, মানুষ ক্রমশ পরস্পরের কাছ থেকে দূরে সরে যায়।
জীবনের ব্যক্তিগত বেদনা ও অপূর্ণতাকে আত্মশক্তিতে রূপান্তরিত করে মৈনাক সাফল্যের শিখরে আরোহণ করে। কিন্তু বাহ্যিক সাফল্য যতই সুদৃঢ় হোক, তার অন্তর্লোকে থেকে যায় এক অমোচনীয় শূন্যতা—একটি অসম্পূর্ণ সম্পর্ক, একটি দীর্ঘ প্রতীক্ষা এবং উচ্চারিত না-হওয়া কিছু বাক্য।
বহু বছর পর ভাগ্যের অমোঘ পরিহাসে যখন জীবন তাদের পুনরায় মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দেয়, তখন উত্থাপিত হয় এক কঠিন ও অনিবার্য প্রশ্ন—অর্থ, প্রতিষ্ঠা, প্রতিপত্তি এবং সাফল্য কি কখনও হারিয়ে যাওয়া সময়কে পুনরুদ্ধার করতে পারে? নাকি কিছু মানুষ আমাদের জীবন থেকে দূরে সরে গেলেও স্মৃতি, অভ্যাস ও ভালোবাসার অন্তঃসলিল প্রবাহে আজীবন বেঁচে থাকেন?
‘সে তো আজও বোঝে না’ নিছক একটি প্রেমকাহিনি নয়; বরং এটি বন্ধুত্ব, অঙ্গীকার, আত্মত্যাগ, সাফল্যের অন্তর্নিহিত মূল্য এবং সময় থাকতে হৃদয়ের কথা ব্যক্ত করে দেওয়ার এক গভীর জীবনদর্শন। ছবিটি তাঁদের অনুভূতির প্রতিধ্বনি হয়ে উঠতে চায়, যাঁরা সম্পর্কের দায়বদ্ধতা বহন করতে করতে নিজেদের আবেগকে বিস্মৃত করেছেন; যাঁরা কাউকে গভীরভাবে ভালোবেসেও সেই ভালোবাসার কথা বলতে পারেননি; কিংবা যাঁদের জীবনে কোনও এক হারিয়ে যাওয়া প্রিয় মানুষ আজও স্মৃতি ও অনুভূতির অলিন্দে নীরবে বিরাজমান।
রন রাজের মূল ভাবনা ও পরিচালনায়, মুকেশ পান্ডের প্রযোজনায় ‘পান্ডে মোশন পিকচার’-এর ব্যানারে নির্মিত ‘সে তো আজও বোঝে না’ আগামী ২ অক্টোবর ২০২৬ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেতে চলেছে। ছবিটির সহ-প্রযোজনায় রয়েছে ‘ল্যানর্টান ফিল্মস’। সহ-প্রযোজক হিসেবে রয়েছেন সৌমীক ব্যানার্জী, অনুসূয়া বাভেজা এবং শরভ চ্যাটার্জী। ছবির কার্যনির্বাহী প্রযোজকের দায়িত্বে রয়েছেন দেবার্ঘ মুখার্জি।
ভালোবাসার যে অনুভূতি সময়ের প্রবাহেও নিঃশেষ হয় না, বরং আরও গভীরতর হয়ে স্মৃতির অন্তরালে বেঁচে থাকে—‘সে তো আজও বোঝে না’ সেই অনুভূতিকেই বড় পর্দায় এক আবেগঘন ও মর্মস্পর্শী আখ্যানের রূপ দিতে চলেছে।
কারণ কিছু ভালোবাসা কখনও শেষ হয়ে যায় না—শুধু অনন্তকাল থেকে যায় একটি প্রশ্ন: “কেন সে বোঝে না?”









Leave a Reply