ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা: সৌন্দর্যকে নিছক বাহ্যিক চাকচিক্যের সীমারেখায় আবদ্ধ না রেখে আত্মবিশ্বাস, ব্যক্তিত্ব, প্রতিভা, শিষ্টাচার এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে একাত্ম করে দীর্ঘ একাদশ বছরের পথপরিক্রমা সম্পূর্ণ করল আইগ্ল্যাম বেঙ্গল। গত ২৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত হল আইগ্ল্যাম বেঙ্গলের একাদশতম পর্ব, যেখানে মুকুটের লড়াইয়ের পাশাপাশি প্রতিভা, আত্মপরিচয় নির্মাণ এবং সমাজের প্রতি দায়িত্বশীলতার এক অনুপম বার্তাও প্রতিফলিত হল।
আইগ্ল্যামের প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক দেবজান্নি মিত্রা-র সুদূরপ্রসারী ভাবনায় এই আয়োজন কেবল সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা নয়; বরং ব্যক্তিত্বের পরিশীলন, আত্মবিশ্বাসের দৃঢ়ীকরণ, নেতৃত্বদানের সক্ষমতা, শিষ্টাচার এবং দায়িত্বশীল মানসিকতার বিকাশের একটি সৃজনশীল পরিসর। তাঁর দর্শনে, মুকুট কোনও যাত্রার পরিসমাপ্তি নয়, বরং নতুন দায়িত্বের দ্বারোদ্ঘাটন। সেই দর্শনই এদিনের আয়োজনকে দিয়েছে স্বতন্ত্র তাৎপর্য।
মিস্টার বেঙ্গল ২০২৬
পুরুষ বিভাগে মিস্টার বেঙ্গল ২০২৬-এর সম্মানজনক মুকুট অর্জন করেন অরিহন্ত ভট্টাচার্য। বাংলার মুখ নির্বাচিত হন সিদ্ধার্থ সাহু, আর শ্রেষ্ঠ মডেল-এর স্বীকৃতি পান অরিজিৎ দাস। প্রথম রানার-আপের শিরোপা অর্জন করেন প্রিয়ব্রত দাস, দ্বিতীয় রানার-আপ হন অনুব্রত মণ্ডল।
মিস বেঙ্গল ২০২৬
নারী বিভাগে মিস বেঙ্গল ২০২৬-এর মুকুট শোভিত হয় শ্রীপর্ণা চক্রবর্তী-র শিরে। বাংলার মুখ-এর মর্যাদা অর্জন করেন দীপান্বিতা রায়, আর শ্রেষ্ঠ মডেল নির্বাচিত হন সঞ্জনা হেলা। প্রথম রানার-আপ হন সোনিয়া কুমারী, দ্বিতীয় রানার-আপের সম্মান পান ঋতু দাস।
মিসেস বেঙ্গল ২০২৬
বিবাহিত নারীদের বিভাগেও ছিল সমান উচ্ছ্বাস ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার আবহ। মিসেস বেঙ্গল ২০২৬ নির্বাচিত হন প্রিয়াঙ্কা শর্মা রায়। বাংলার মুখ-এর সম্মান পান দেবযানী সেনগুপ্তা, শ্রেষ্ঠ মডেল নির্বাচিত হন রোমা খান্না। প্রথম রানার-আপ হন রীনা দেবনাথ, দ্বিতীয় রানার-আপের শিরোপা অর্জন করেন সম্পা দাস।
এদিন বিশেষ সম্মান গোদরেজ ওম্যান অব দ্য ইয়ার ২০২৬-এ ভূষিত হন প্রিয়াঙ্কা শর্মা রায় ও শ্রীপর্ণা—যা তাঁদের প্রতিভা, ব্যক্তিত্ব ও সাফল্যের প্রতি এক বিশেষ স্বীকৃতিরূপে প্রতিভাত হয়।
কনিষ্ঠ প্রতিভাদের উজ্জ্বল উপস্থিতি
আইগ্ল্যামের মঞ্চে কনিষ্ঠ প্রতিযোগীদের উপস্থিতিও সন্ধ্যাকে করে তোলে আরও প্রাণময় ও বর্ণময়। জুনিয়র মিস বেঙ্গল ২০২৬ নির্বাচিত হন ইশি, জুনিয়র বয় বেঙ্গল ২০২৬-এর মুকুট অর্জন করেন দেবাংশ। অন্যদিকে মিস টিন বেঙ্গল ২০২৬ নির্বাচিত হন কেনজিয়া। বিশেষ স্বীকৃতিতে সম্মানিত হন মুমতাজ বেগম।
পোশাকশৈলীতে নান্দনিকতার আবেশ
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল বিশেষ পোশাক প্রদর্শনী। বিশিষ্ট পোশাকশিল্পী ড. শান্তনু গুহঠাকুরতা, ভাবিকা এবং জিৎ জগজিৎ-এর নকশায় নির্মিত নান্দনিক পোশাকের প্রদর্শন মঞ্চের সৌন্দর্যকে আরও বহুমাত্রিক করে তোলে। পোশাকের নান্দনিক বিন্যাস, মডেলদের আত্মবিশ্বাসী পদচারণা এবং মঞ্চসজ্জার সমন্বয়ে সন্ধ্যার আবহ হয়ে ওঠে স্বতন্ত্র শিল্পরুচির প্রতিচ্ছবি।
বিচারকমণ্ডলী, বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব, পোশাকশিল্পী, প্রতিযোগী এবং বিনোদন জগতের খ্যাতনামা ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয় এক প্রাণোচ্ছল ও স্মরণীয় সন্ধ্যায়। প্রতিযোগিতার প্রতিটি পর্যায়েই সৌন্দর্যের পাশাপাশি আত্মপ্রকাশ, ব্যক্তিত্বের ঔজ্জ্বল্য এবং মঞ্চসুলভ আত্মবিশ্বাস বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
একাদশ বছরের এই দীর্ঘ অভিযাত্রার শেষে আইগ্ল্যামের বার্তা তাই নিছক একটি সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার সীমানা অতিক্রম করে আরও গভীরতর হয়ে ওঠে—মুকুটের দীপ্তির চেয়েও মহত্তর আত্মবিশ্বাস, সৌন্দর্যের চেয়েও মূল্যবান ব্যক্তিত্ব, আর সাফল্যের চেয়েও তাৎপর্যপূর্ণ নিজের স্বতন্ত্র পরিচয় নির্মাণের ক্ষমতা। সেই বিশ্বাসকে সঙ্গী করেই বাংলার নবীন ও উদীয়মান প্রতিভাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করছে আইগ্ল্যাম।



Leave a Reply