
‘Hello Kolkata Chronicle’ (multi-lingual Sunday supplement) was published on 7th June, 2026, along with HELLO EVENING KOLKATA main paper.
From the Editorial Desk:

–Sankar Sarkar, Author
Welcome to HELLO KOLKATA Weekly Chronicle. Published on Sunday 7th June, 2026, this supplement is a literary magazine, a space where creativity, imagination and thoughtful expressions come together.
Literature is more than an art form. It reflects human experience, culture and the changing realities of our world.
Within these 2 pages, readers will encounter a diverse collection of poetry, essays and creative works in 3 languages.
We thus celebrate the richness of language and the power of ideas. Each contribution offers a unique perspective, inviting reflection, dialogue and discovery.
We sincerely thank our contributors, reviewers and readers for their continued support and enthusiasm. Their dedication helps sustain this vibrant literary community.
……………………………………………………………………
A few of the creative compositions are hereby posted here:-
ফিরে আসা

–অপর্ণা বিশ্বাস
শেষ বিকেলে সূর্য মেঘের আবরণে
ঠিক তখনই তুমি এলে নতুন শিহরণে,
পাকে পাকে অজানা পথের
বাধা পেরিয়ে যাওয়া।
গিরিশৃঙ্গের পাদদেশে আমি ক্ষুদ্রএক, মুগ্ধতার ভিরে দাঁড়িয়ে আমি,
মেঘের আড়ালে আলোর লুকোচুরি,
তোমার হাতে আমার হাত,
দুজনের মুখোমুখি মুগ্ধ চাহন।
ধীরে ধীরে পরস্পরের আলিঙ্গনে অঙ্গিকার ।।
আজ আমি নিঃস্ব,
হাত বাড়াই ছুঁতে চাই
পাহাড় এসে সামনে দাঁড়ায় ।
এ পাহাড় থেকে ও পাহার অঝোরে বৃষ্টি
শূন্য হাত ফিরে আসে
…………………………………………………………………………..
The Quixotic Universe

–Shakil Ahmed
Luminous sun sprinkles its comforting beams over the quixotic universe,
Lotus blooms amid the haunting fear, exhaling vibes of awesome love.
Life sways like unfamiliar shooting stars in a blinking sky,
When silver beams of moonlight pierce the veil of night.
And time drifts away like threads of colourless fumes;
I find my heartbeat longs for your love.
Hope rises like the swelling tides of the ocean,
As I traverse the new path of life like a voyager on an unmapped sea.
I am huddling around your love, seeking warmth and the abundance of life;
Love blooms like a dandelion, and wonder lingers in the stillness of falling light.
Let silence teach the heart the lesson of enduring love,
A love that is both profound and mysterious.
I move through the threshold of love, unsoothed and with an agitated mind;
I rush with a haphazard heart, seeing the gaze of her tender eyes.
Let my spirit blaze to unveil the mystery of aesthetic flavours,
As I begin to roar gleefully, shattering the bulge of waves.
Listening to the serenade of undying love,
I embellish her with the resplendent hues of impulsive care.
She is like a dazzling midnight moon over my shadowy kingdom,
Scattering soft, caring beams over my withered and shrivelled heart.
She cleanses the scars of despondence and agony
From my sullied and tainted soul.
Don’t let my dreams of love fade away
Before they transform into the impulsive reality of life.
………………………………………………………………………….
মুখোশ

–হেমন্ত সরকার
আমার অনেকগুলো মুখোশ আছে।
পৃথিবীর হাট থেকে শখ করে কেনা।
কোনোটা সুর, কোনোটা বা অসুরের।
কোনোটা বা সাধুমুখো।
কোনোটা আবার নিতান্ত বাঘ, ভাল্লুক ছাগলের।
দোকানি বলেছিল –
“দেখবেন, কাজে লাগবে।”
আমিও জায়গা বুঝে
ঘুরিয়ে ফিরিয়ে মুখোশ গুলো পড়ে ঘুরে বেড়াই।
কেও আমায় ভয় পায়,
কেও বা ভক্তি করে।
কেও বা মাথায় হাত বুলিয়ে দুধে – ভাতে রাখে।
আর – এ ভাবেই পৃথিবীর আড়ালে থাকি।
মুখোশ গুলো কষ্ট দেয় আমাকে,
তবু আত্মরক্ষায় মুখোশে মুখ লুকাই।
কিন্তু – মন খুঁজে ফেরে এক নিশ্চিন্ত আশ্রয়।
তাই – সেই বনলতার কাছে মন ছুটে যায়।
মুখোশ নামিয়ে বলি –
“চিনতে পেরেছো কি আমার আমি কে!”
………………………………………………………………..
ভালবাসা মানে

–রুমা হালদার
মানসিক শান্তির কফিনে
শেষ পেরেকটা পুঁতে
ভালবাসা অবলীলায় চলে গিয়েছিল,
সেদিন প্রত্যাশার বিষ ও শূন্যতার জন্ম হয়েছিল।
এক ফোঁটা জলের আশায় পাতা হাত
পূর্ণ হয়েছিল শুধু নোনতা জলে
যা ছিল পাওয়া খেলার ছলে।
তৃষ্ণার্ত মানুষ কি কখনও তৃষ্ণার্তকে জল দিতে পারে?
সবটুকু তো রাখা সাগরের ওপারে।
ভালবাসা কি আসলে গভীর আসক্তি?
না মানসিক নির্ভরতা?
যা আমরা লালিত পালিত করি
অতি স্বযত্নে,যা মনের বিলাসিতা..
অন্য হৃদয়ে ঘর বাঁধা
মরীচিকার পিছনে আমৃত্যু ছুটে চলা
এক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত।
আশার পরশ মেখে
নিজেকেই নিজে করি অশান্ত।
এই যে আশা আকাঙ্খা, অভিমান, অনুরাগ
পাওয়া না পাওয়ার হিসেব নিকেশ
সবটুকুই বিভ্রান্ত…
…………………………………………………………
নিঃসঙ্গ ক্যানভাস

–অধ্যাপক ডঃ পার্থসারথি চক্রবর্তী
ফিচার এডিটর – হ্যালো কলকাতা
বিকেল ফুরিয়ে যখন নামে ধূসর সাঁঝ,
স্মৃতির অবয়ব পরে একলা থাকার সাজ।
বুকের বাম পাশে এক চেনা মৃদু ব্যথা,
ঝরা পাতার মতো জমা হয় না-বলা কথা।
তুমি তো দিয়েছ পাড়ি দূর সীমানার পারে,
মেঘের চিঠি পাঠাই আমি আঁধার এ অন্ধকারে।
শূণ্য ঘরে প্রতিধ্বনি তোলে চেনা সেই সুর,
কাছে থেকেও তুমি আজ কত আলোকবর্ষ দূর!
চোখের কোণে জমে থাকা এক ফোঁটা জল,
বলে যায় হারানোর গল্প ব্যাকুল ও চঞ্চল।
বিষাদের চাদরে ঢাকা এই নিস্তব্ধ রাত,
খুঁজে ফেরে অনাহুত এক চেনা স্পর্শের হাত।
তুমি হীনা প্রতিটি প্রহর যেন দীর্ঘ এক মায়ায়,
আমি আজও বেঁচে আছি শুধু স্মৃতির ছায়ায়।
…………………………………………………………….
विश्व पर्यावरण दिवस
–डॉ अरुण कुमार राज
धरती की ये हरियाली, जीवन का आधार है,
नदियाँ, पर्वत, वन-उपवन — सबका हम पर उपकार है।
नीला गगन, शीतल पवन, प्रकृति का अनुपम श्रृंगार,
इसके बिना सूना जीवन, जैसे बिन स्वर के सितार।
आज समय की पुकार है, जागो मानव, समझो बात,
प्रकृति माँ की रक्षा करना, हम सबकी है जिम्मेदारियाँ साथ।
पेड़ लगाओ, जल बचाओ, स्वच्छ रखो हर एक धरा,
हरियाली से ही महकेगा, जीवन का ये सुहाना सवेरा।
लोभ-लालच छोड़कर अब, संतुलन को अपनाना होगा,
धरती को फिर स्वर्ग बनाकर, जीवन को बचाना होगा।
विश्व पर्यावरण दिवस ये, देता हमको ये संदेश—
प्रकृति है तो हम हैं, इसका करना होगा विशेष संरक्षण अवशेष।
आओ मिलकर शपथ लें हम, हर दिन इसका मान बढ़ाएँ,
धरती माँ के आँचल को, फिर से हरा-भरा बनाएँ।
……………………………………………………………
সময় খুব খারাপ
-উজান
সময় খুব খারাপ …
কাউকে বিশ্বাস করার মতো
পরিস্থিতি নেই …নিশ্বাসে প্রশ্বাসে বিষ…
সারাদিন রাত হেঁটেও পা দুটো
সেই পথেই হোঁচট খায় বার বার
তবুও হাঁটতে হয় বাঁচার জন্য …
পায়ের নিচের মাটিটুকু হারানোর ভয়ে
আমি চাঁদ ধরতে চাইনি কখনও …
রাত পোহাতেই কুয়াশার মতো
নীরবে হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে
আমি নীল রাত জেগে থাকি আজীবন …
ইহ জন্ম পর জন্ম না ভেবে
জীবনের সাথে পা মেলাই
যতো দিন আছি পৃথিবীর বুকে …
……………………………………………………..
বৃষ্টি দেখা দে
–ডাঃ অনিরুদ্ধ পাল
বৃষ্টির দেখা নাই রে
বৃষ্টির দেখা নাই রে।
মাঠ-ঘাট, নদী-নালা সব যায় শুকায়ে,
মানুষ, পশু-পাখি হাহাকার করে।
কোথায় গেলি রে তুই বৃষ্টি?
জানি তুই এক অপরূপ সৃষ্টি।
কিন্তু কেন এত অনাসৃষ্টি?
এর উত্তর আমাকে কী দিবি?
দুঃসময়ের বন্ধুই প্রকৃত বন্ধু।
তাই দেখা দে ওহে প্রাণবন্ধু।
তীব্র দাবদাহে করছি সবাই হাঁসফাঁস,
তোর সজল ধারা দিক মোদের স্নেহের আশ্বাস।
ওহে বৃষ্টি বিধাতার অপরূপ সৃষ্টি,
দেখা দে, দেখা দে – অপরূপা বৃষ্টি।
তোর তরে যে সমস্ত ধরণী পাগল,
তোর সুধাবর্ষণেই হবে সবুজ হিল্লোল।
রুক্ষ ঊষর ভূমি হবে শস্যবতী,
মানুষও তোর শীতল স্পর্শে পাবে শান্তি।
তাই আয় বৃষ্টি ঝেঁপে,
আর ধান দেব মেপে।
বৃষ্টি তো আমাদের প্রাণ,
যেন মেঘের পরে গান।
বুক ভরে ওঠে নতুনের আশ্বাসে,
গাছে গাছে সঞ্জীবনী বাতাসে।
……………………………………………………….
The Geographic Characteristics of Spain

–Lopamudra Sarkar
Spain occupies the third place in Europe in extension after Russia and France. The territory of Spain extends from the Pyrenees Mountains in the north upto the Straits of Gibraltar in the south and from the Mediterranean Sea in the east upto Portugal and Atlantic Ocean in the west.
At the centre of Spain is a Central Plateau. At the north of the plateau is the Cantabrian Range and at the south of the plateau are the Morena Hill and the Nevada Hill.
At the centre of the plateau is the Guadarrama Hill. Mulhacèn is the highest peak of the country which is situated on the Nevada Hill.
The important rivers of Spain are Duero, Tajo, Ebro, Guadiana and Guadalquivir.
Madrid is the capital of Spain. The other important cities of Spain are Bilbao, Barcelona, Toledo, Granada, Seville and Valencia.
………………………………………………………………..
ইচ্ছেডানা
–চিন্ময়ী মিত্র
ইচ্ছেডানা উড়ছে ডানা মেলে,
যেন নজর রাখা দূরত্বে,
হৃদয়ের স্পর্শ ছুঁয়ে যায়,
মনোভূমির বালিয়াড়িতে।
এখনো স্বপ্ন দেখি,
রংহীন জীবনটাকে রং তুলি দিয়ে আবারও আঁকি।
যেনো সপ্তসাগর পার হয়ে যায়,
ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগৎ-এর পারাপার রূপে।
ইচ্ছেডানা নিয়ে পাখিটি উড়তে থাকে,
উড়াল দিয়েছে সে ভালোবেসে।
………………………………………………………………….
Hello Kolkata Focus
जीवकारुण्य की नदियों का नित्य जल-ध्यान
कावेरी तट से गंगा किनारे तक : नागतिहल्ली रमेश

कन्नड़ के सुप्रसिद्ध कवि, बहुआयामी चिंतक, संगठक, राजनीतिक विश्लेषक और कृषक नागतिहल्ली रमेश राज्य, राष्ट्रीय और अंतरराष्ट्रीय स्तर पर अनेक सम्मानों से अलंकृत हो चुके हैं। अनेक अंतरराष्ट्रीय पुरस्कारों से सम्मानित इस साहित्यकार को अब “गंगा–कावेरी महासागर और धरती करुणा अंतरराष्ट्रीय पुरस्कार – 2026” से सम्मानित किया जा रहा है।
यह सम्मान केवल एक कवि की व्यक्तिगत उपलब्धि नहीं है; यह प्रकृति, नदियों, पृथ्वी और समस्त जीव-जगत के प्रति समर्पित एक जीवन-दृष्टि का सम्मान है।
गंगा और कावेरी भारत की दो महान नदियाँ हैं। ये केवल किसानों और जनजीवन की जीवनरेखाएँ ही नहीं, बल्कि भारतीय सभ्यता की सांस्कृतिक और आध्यात्मिक स्मृतियों की संवाहक भी हैं। दोनों नदियों के जन्मस्थान भिन्न हैं, परंतु उनका अंतिम मिलन एक ही सागर में होता है।
कावेरी की धरती पर जन्मे कवि नागतिहल्ली रमेश आज दूर पश्चिम बंगाल में एक प्रतिष्ठित अंतरराष्ट्रीय सम्मान प्राप्त कर रहे हैं। दक्षिण भारत की साहित्यिक चेतना बंगाल की सांस्कृतिक धरती पर एक नई पहचान प्राप्त कर रही है।
भारत सरकार और पश्चिम बंगाल सरकार के सहयोग से, यूनाइटेड जर्नलिस्ट्स फोरम, आनंद बहार तथा यूनिवर्सल सोल ट्री फाउंडेशन द्वारा संयुक्त रूप से आयोजित समारोह में यह पुरस्कार प्रदान किया जा रहा है।
………………………………………………………..
On a Day in Summer

Dr. Vivekananda Chakraborty (National Awardee)
The morning wakes in waves of molten gold,
As shadows shrink beneath the climbing sun;
The summer day begins to broad unfold,
Before the quiet tasks of dawn are done.
A breathless silence hangs upon the trees,
Where heavy leaves await a straying gust;
The fields are longing for a cooling breeze,
While ancient pathways turn to golden dust.
The noon arrives with fierce and blinding light,
And casts a stillness over land and stream;
The weary traveller seeks the shade from sight,
To drift away into a midday dream.
Yet evening brings a soft, redeeming grace,
As crimson skies embrace the fading heat;
A gentle dusk steals the weary place,
And renders summer’s fiery reign complete.
……………………………………………………….
আনন্দ চিঠি
–শ্যামল বিশ্বাস
তোমাকে কি বলে সম্মোধন করব আনন্দ ! না আনন্দদা !
আজ চার মাস হতে চলল তোমার কোনো খবর নাই। সুস্থ না অসুস্থ তাও জানি না ।
এর মধ্যে তোমাদের বাড়িতে গিয়ে ছিলাম। মাসিমা ও মেসো মশাই তোমারও কোনো খবর দিতে পারলেন না । আমার মতো তারাও চিন্তিত।
আমার পরীক্ষার রেজাল্ট বের হয়েছে। অনার্স পেয়ছি তবে যা ভেবেছিলাম তা আর হয় নাই। তার জন্য কিছুটা তুমি নিজেই দায়ী। পরীক্ষার সময় অনেকটাই তোমার পিছনে দৌড়ঝাঁপ করছি। কলেজে যাওয়ার সময় তোমাকে দেখতে না পেয়ে ক্লাস অফ করে তোমায় খুঁজতে লাইব্রেরিতেও গিয়েছি । শুধু দেখতে একটি বার তোমাকে। তুমি কলেজে এসেছ কিনা ! পরীক্ষার আগে অনেক বার আমাকে এরকম করতে হয়েছে শুধু তোমাকে একটি বার দেখব বলে। তোমাকে দেখার পর আমার মন একদম শান্ত হয়ে যেতো ।
জানি না এটা কিসের ইঙ্গিত ছিল। বাড়িতে এসেও বই পড়তে ভাল লাগতো না। মা একদিন বলেই ফেলল আমাকে কেন শুকনো শুকনো দেখাচ্ছে ? ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া করছিস না জানতে চায়।
এই চিঠি আমি আরতির কাছে দিয়ে এলাম। যখন তোমার সাথে তার দেখা হবে তখন দিতে বলেছি।
আমি তোমাকে যতটা বুঝতাম তার এক সিকিও আমাকে তুমি বুঝলে না বা কখনো চেষ্টা কর নাই । প্রথম যেদিন তোমাদের বাড়িতে গেলাম। ভেবেছিলাম তোমাকে নিজের মতো করে পাব। তোমাকে যে আমি ভালোবাসতে শুরু করে ছিলাম । আপন করে ভেবেছিলাম পেতে। কখন যে আমার মনে এমন রুপান্তর হল আমই নিজেই জানি না । একে মনে হয় প্রেম বলে। যা শুধুই ভালোবাসার আদি অন্ত। গঙ্গা যমুনার মতো। কথা বলে আসে না। কখন যে সে নিভৃতে এসে পড়ে , আগাম কোনো খবর না দিয়ে চলেও যায়।
আমার ভালোবাসা বা প্রেম যে এভাবে প্রস্ফুটিত হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাবে । ভাবতেই পারছি না । এই প্রেম কি এক তরফের ? জানতে ইচ্ছা করছে !
আমি আজও ঠিক মতো তার মূল্যায়ন করে উঠতে পারি নাই ।
যদি তুমি সাড়া দিতে আজ আমার জীবনটা হয়তো অন্যখাতে বহে চলতো শান্ত নদীর স্রোতের মতো ।
তবে শোন আগামী সপ্তাহে আমরা সবাই মিলে ভিলাই যাচ্ছি। বাবার এক বন্ধু নিতীশ সমাদ্দার থাকেন সেখানে। আগে আমাদের পাড়ায় বাড়ি ছিল। সব ছেড়ে ওখানে বাড়ি করে পাকাপাকি বাসিন্দা হয়ে গেছেন।
নিতীশ কাকু বাবাকে বার বার যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছে।
কানাঘুষোয় খবর পেয়েছি কাকুর এক মাত্র ছেলে সাগ্নিক পাঁচ মাসের মধ্যে বিদেশে যাবে ছয় বছরের জন্যে। সাগ্নিক আমার থেকে পাঁচ বছরের বড়। শুনেছি বড় এক কম্পানিতে কাজ করে। ভাল চাকুরি ভাল পয়সা পায়।
মাস তিনেক আগে নিতীশ কাকুও কাকিমা সাধনা আমাদের বাড়িতে এসেছিলেন। আমাকে কাকু কাকিমার বেশ পছন্দ। সেই জন্য নাকি যাওয়া।
মাকে ডেকে একদিন বললাম। –এখন নই গেলে হতো না !যাওয়ার দরকার নাই। মাষ্টার ডিগ্রির অ্যাডমিশনের জন্য এখন আমাকে অনেক দৌড়ঝাঁপ করতে হবে।
–মোটে তো দশদিনের জন্য যাব । তোর অ্যাডমিশনের এখনও এক মাস বাকি।
–তো !
–যেতে হবে। তোর বাবা বলছিল তার রিটার্ডমেন্টের সময় এসে গেছে। তাই আমরা ভাবলাম তোকে যদি ঠিক সময় পাত্রস্থ করতে পারি। পরে নীলুর জন্য পরে ভাবা যাবে । তুই অন্যথা করিস না। ভালো ছেলে পেতে গেলে অনেক অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়। আবার আমাদের পালটি ঘর হবে কিনা সেটাও দেখতে হয়।
আমি একটা কথা বলি শোন। এটার জন্য তোর বাবাকে আর কিছু বলার দরকার নাই। লোকটা চিরকাল সংসারের জন্য খেটে মরল। তবুও তোকে ও নীলুকে পড়ানোর জন্য কি না করেছে। একার চাকুরি। যা বেতন পায় সবই তো সংসারে লেগে যায়। তুই একটু ভেবে দেখিস ?
এ মতো পরিস্থিতিতে আমি গভীর জলে পড়ার মতো। কি করব ! ভেবে কোনো রাস্তা পাচ্ছি না। তুমি, আনন্দ কাছে থাকলে কিছু করা যেতো। সে পথও বন্ধ । আমি মনে হয় পাগল হয়ে যাব।
একদিন সত্যি আমি বোন মা বাবা ভিলাই পৌঁছে গেলাম এক বিকেল বেলায়।
আমাকে বিশেষ করে হেড মাষ্টারের মেয়েকে দেখে ওরা খুশি।
সাগ্নিকের সাথে আমার অনেক্ষণ কথা হল। ও উচ্চতায় মনে হয় আমার চেয়ে একটু বড়। ছওড়া কাঁধ। মনে হয় জিমে যাওয়ার আসার অভ্যাস আছে।
— হাই !
–হাই ! আমিও বললাম।
দুই একটা কথা বলার পর আমি আমার পড়ার কথা বললাম।
বেশ চিন্তা ভাবনা করে বলল
–যদি তোমার আমার বিয়ে হয় ইন্ডিয়াতে তোমার পড়াশুনা হবে না। ওখানে গিয়ে তুমি মাষ্টার ডিগ্রি অনায়াসে করতে পারবে। তাছাড়া একলাই বা ঘরে বসে তুমি কতক্ষণ চুপচাপ থাকবে। একটা কিছু নিয়ে থাকলে সময় কাটবে । ওখানে পড়াশুনার অনেক পথ আছে ।
এখন দেখ মাষ্টার মশাই , তোমার মা ও আমার মা বাবা কি করে।
— তোমার নিজের মত !
–এখনই জানতে চাচ্ছ! মনে হচ্ছে তুমি ডাইরেক্ট কথা বেশী পছন্দ কর।
–হাঁ । কিছুটা।
–এটা জীবনের বড় এক এবং সুন্দর একটা ক্যারেক্টার । আমি অ্যাপ্রেসিয়ট্ করি। কিন্তু আমি আর তোমাকে জিজ্ঞাসা করে বিরক্ত করতে চাই না । তোমার মত আছে কিনা!
তুমি যেটা ভাল মনে করবে তা বড়দের বলে দিও। পরিষ্কার করে কথা বলা আমিও পছন্দ করি ।
–আমার প্রশ্নের উত্তর পেলাম না।
–কি ? ও বুঝতে পেরেছি। দেখ আমি আমার মা বাবার এক মাত্র ছেলে। ওরা আমার জন্য সব কিছু করেছে। এখানে এসে বাড়ি করা। আমাকে ভালো স্কুলে পড়ানো। বেঙ্গালুরুর ভাল কলেজ থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাস করেছি। ভাল চাকুরি করি । ও সবের পিছনে তাদের হাত আছে। আর কিছু জানতে চাও !
–না !
–আর একটা কথা তোমাকে নিয়ে আজ বিকালে ভিলাই শহর ও আসপাসে একটু ঘোরার জন্য যেতে বলেছে। তুমি কি যাবে!
–যাবো।
–প্রস্তুত থেক । সন্ধ্যা ছয়টার বের হব ।
বিদিশা মাথা নেড়ে সম্মতি জানাল।
— মা। আসছি।
কিছুক্ষণ পরে মোটর সাইকেলের আওয়াজ শুনলো। সাগ্নিক মনে হয় কোথাও গেল ।
এখানে তোমাকে একটা কথা বলি। তোমাদের ছেলেদের যতখানি স্বাধীনতা । আমাদের ক্ষেত্র সেটা অনেকটা নির্ভর করে পরিস্থিতির উপর হঠাৎ যেমন না বলতে পারি না সেই রকম সময় বিশেষে হাঁ ও বলতে পারি না।
আনন্দ আমি সত্যিই পাগল হয়ে যাব। মনের মধ্যে অসংখ্য দ্বিধা সাথে দুঃচিন্তা।
বার বার গানের লাইন মনে পড়ছে।
“কে আছ মোরে এ অধমেরে,
বাঁচাও আমার হাত দুটি ধরে।
কি করি আমি পথ যে না পাই,
অন্ধকার শুধু দেখতে আমি পাই।”
এ চিঠি যখন তুমি পাবে।
আমি তখন অনেক দূরে ! !
ক্ষমা করে দিও আনন্দ আমাকে এক পাগলি বলে।
যদি পার আরতিকে জীবন সাথী করে নিও ।
–ইতি,
বিদিশা
…………………………………………………

For details, log on to www.hellokolkata.co.in
www.helloeveningkolkata.com
**##For news coverage of all sorts, event management, creative content, promotions, etc. contact Asish Basak (Editor-Director of HELLO KOLKATA) Ph- 9339228087, 6289583507 E-Mail: hellokolkata1@gmail.com
