ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, দমদম: শিল্প, সৃজনশীলতা ও গভীর জীবনদর্শনের মেলবন্ধনে দমদম মিলন চক্রের ৪৪-তম বর্ষের শ্যামাপুজোর মূল আকর্ষণ এবার ‘অন্তর্লীন’। প্রতি বছরের মতো এবারও অভিনব ভাবনা ও শৈল্পিক উপস্থাপনার মধ্য দিয়ে দর্শনার্থীদের সামনে এক নতুন অভিজ্ঞতা তুলে ধরার প্রয়াস নিয়েছে পুজো উদ্যোক্তারা।পুজোর সভাপতি নিত্যানন্দ ঘোষ এবং সহ-সভাপতি রমা অধিকারীর নেতৃত্বে এবারের আয়োজন বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। শিল্পী সুব্রত বোসের পরিকল্পনা ও শিল্পভাবনায় ফুটে উঠেছে এবারের থিম ‘অন্তর্লীন’। ‘অন্তর্লীন’ শব্দের অর্থ অন্তরের গভীরে লুকিয়ে থাকা কিংবা প্রচ্ছন্ন অবস্থায় বিরাজ করা। এই ভাবনাকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছে এবারের পুজোর মূল দর্শন। মানুষের জীবনে যা কিছু দৃশ্যমান, তার বাইরেও রয়েছে এক বিশাল অদৃশ্য জগৎ। মানুষের মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা আবেগ, অনুভূতি, স্মৃতি, বিশ্বাস, যন্ত্রণা ও ভালোবাসার মতো নানা বিষয় সেই অন্তর্জগতেরই অংশ। প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও বাহ্যিক জীবনের আড়ালে এই অনুভূতিগুলি অনেক সময় অব্যক্ত থেকে যায়। ‘অন্তর্লীন’ থিমের মাধ্যমে সেই সুপ্ত অনুভূতি ও অদৃশ্য অস্তিত্বকে শিল্পের ভাষায় প্রকাশ করার চেষ্টা করা হয়েছে। শ্যামাপুজোর আধ্যাত্মিক আবহের সঙ্গে এই ভাবনার এক গভীর যোগসূত্র রয়েছে। দেবী শ্যামা শক্তি, চেতনা ও অন্তর্নিহিত সত্যের প্রতীক। বাহ্যিক জগতের ঊর্ধ্বে উঠে নিজের অন্তরের শক্তি ও উপলব্ধিকে চিনে নেওয়ার যে বার্তা, ‘অন্তর্লীন’ সেই ভাবনাকেই নতুনভাবে দর্শকদের সামনে তুলে ধরতে চায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উত্তর জেলা সভাপতি চণ্ডীচরণ রায়। তাঁর উপস্থিতিতে পুজোর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান বিশেষ মর্যাদা লাভ করে। দমদম মিলন চক্রের ৪৪-তম বর্ষের এই শ্যামাপুজো তাই শুধুমাত্র আলোকসজ্জা ও মণ্ডপসজ্জার আয়োজন নয়, বরং শিল্পের মাধ্যমে মানুষের অন্তর্জগতকে ছুঁয়ে দেখার এক সৃজনশীল প্রয়াস। ‘অন্তর্লীন’-এর ভাবনা দর্শনার্থীদের মনে কতটা গভীর ছাপ ফেলে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে পুজোপ্রেমীরা।

