কলকাতা: ছোট পর্দার জনপ্রিয়তা অতিক্রম করে বড় পর্দায়ও দর্শকহৃদয়ে স্বতন্ত্র আসন অধিকার করেছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও শোলাঙ্কি রায়ের জুটি। এবার পুনরায় এক প্রেমময় আখ্যানের অবতারণা করতে চলেছেন এই দুই অভিনেতা। আসন্ন বাংলা চলচ্চিত্র ‘রাজকন্যা’-তে তাঁদের যুগল উপস্থিতি দর্শকমহলে নতুন প্রত্যাশার সঞ্চার করেছে। ছবিটির পরিচালনায় রয়েছেন জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রযোজনার দায়িত্বে রয়েছে বিক্রম চট্টোপাধ্যায়ের নিজস্ব প্রযোজনা সংস্থা ‘বিক্রম চ্যাটার্জি ফিল্মস’ এবং ‘ড্রিমস অন সেল’।
‘ইচ্ছেনদী’ ধারাবাহিকের মাধ্যমে বিক্রম ও শোলাঙ্কির যুগলবন্দি দর্শকমনে যে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল, পরবর্তীকালে ‘শহরের উষ্ণতম দিনে’ চলচ্চিত্রেও তার অনুরণন পরিলক্ষিত হয়। তাঁদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়, পারস্পরিক রসায়ন এবং আবেগঘন উপস্থাপনা দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছিল। এবার ‘রাজকন্যা’-র মধ্য দিয়ে সেই পরিচিত যুগল আবারও প্রেমের এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে চলেছে।
চলচ্চিত্রটির আখ্যানের কেন্দ্রে রয়েছে দিব্য ও সোমদত্তার সম্পর্ক। দিব্যর ভূমিকায় অভিনয় করছেন বিক্রম চট্টোপাধ্যায় এবং সোমদত্তার চরিত্রে দেখা যাবে শোলাঙ্কি রায়কে। কৈশোরের বিদ্যালয়জীবনে যে সম্পর্কের অঙ্কুরোদ্গম, সময়ের প্রবহমানতায় সেই প্রেম কীভাবে রূপান্তরিত হয়, মহাবিদ্যালয়জীবনে তার গতিপথ কোন নতুন বাঁক গ্রহণ করে এবং কর্মজীবনে প্রবেশের পর ত্রিশের কোঠায় পৌঁছে সেই সম্পর্ক কতখানি পরিণত ও সুদৃঢ় হয়ে ওঠে—এই বহুমাত্রিক প্রশ্নের উত্তর অনুসন্ধান করবে ছবির কাহিনি। জীবনের তিনটি পৃথক পর্যায়কে অবলম্বন করে প্রেম, মানসিক দ্বন্দ্ব, সম্পর্কের বিবর্তন এবং সময়ের অনিবার্য প্রভাবকে পর্দায় মূর্ত করে তোলাই নির্মাতাদের অভিপ্রায়।
ছবিটি প্রসঙ্গে বিক্রম চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দীর্ঘকাল ধরেই এই কাহিনিকে চলচ্চিত্রায়িত করার বাসনা তাঁর মনে লালিত হচ্ছিল। তবে তাঁর বিশেষ আকাঙ্ক্ষা ছিল, শোলাঙ্কি রায়কে সহশিল্পী করেই এই স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করা। শোলাঙ্কির অন্যান্য কাজের ব্যস্ততার কারণে প্রকল্পটির বাস্তবায়নে প্রায় সাড়ে তিন বছর সময় অতিবাহিত হয়েছে। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। প্রেমিকযুগল হিসেবে দর্শকদের কাছ থেকে তাঁরা যে অকুণ্ঠ স্নেহ ও সমর্থন পেয়েছেন, সেই প্রাপ্তিকে পাথেয় করেই পুনরায় প্রেমের আখ্যান নিয়ে আত্মপ্রকাশ করতে চলেছেন বিক্রম।
‘রাজকন্যা’-তে বিক্রমকে জীবনের দুটি পৃথক বয়সপর্বে উপস্থাপিত করা হবে। সময়ের ব্যবধান এবং চরিত্রের বয়সজনিত পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তাঁর বহিরঙ্গ, অভিব্যক্তি ও অভিনয়শৈলীতেও লক্ষণীয় রূপান্তর ঘটবে। প্রিয়জনকে আপন করে পাওয়ার আকুলতা, অন্তর্দ্বন্দ্ব, মানসিক টানাপোড়েন এবং সম্পর্কের জটিল সমীকরণ—এই সমস্ত অনুভূতির সম্মিলিত প্রকাশের মধ্য দিয়ে দিব্য চরিত্রটির অন্তর্নিহিত সত্তা উন্মোচিত হবে।
অন্যদিকে, শোলাঙ্কি রায়ের কাছে এই ছবির আবেদন বহুলাংশে স্মৃতিমেদুর। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নব্বইয়ের দশকের স্নিগ্ধ, সরল ও মধুর প্রেমের চলচ্চিত্র দেখতে দেখতেই তাঁদের বেড়ে ওঠা। সেই সময়ের প্রেমের আবহে নির্মিত একটি কাহিনির প্রস্তাব স্বাভাবিকভাবেই তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। পাশাপাশি পরিচালক, প্রযোজক এবং সহ-অভিনেতার সঙ্গে তাঁর সুসম্পর্ক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বোঝাপড়া এই কর্মযজ্ঞকে আরও আনন্দময় করে তুলবে বলেই তিনি প্রত্যাশা করছেন।
‘রাজকন্যা’-র অন্যতম বিশেষ আকর্ষণ নব্বইয়ের দশকের কলকাতা। সেই সময়ের নগরজীবন, শহরের পরিবর্তনশীল রূপ, সামাজিক পরিমণ্ডলের রূপান্তর এবং মানুষের ব্যক্তিগত জীবনে সময়ের অভিঘাত কাহিনির গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠবে। নির্মাতারা কেবল একটি প্রেমের গল্প পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ থাকতে চান না; বরং সময়ের সঙ্গে মানুষের অনুভূতি, সম্পর্কের সমীকরণ এবং ভালোবাসার প্রকাশভঙ্গি কীভাবে পরিবর্তিত হয়, সেই সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক অনুষঙ্গও তুলে ধরতে আগ্রহী।
বিক্রম চট্টোপাধ্যায় ও শোলাঙ্কি রায়ের সুপরিচিত যুগল-রসায়ন, নব্বইয়ের দশকের স্মৃতিবিজড়িত প্রেক্ষাপট এবং সময়ের স্রোতে প্রেমের বিবর্তন—এই ত্রিবেণি-সঙ্গমেই ‘রাজকন্যা’ হয়ে উঠতে পারে এক সংবেদনসমৃদ্ধ চলচ্চিত্র-অভিজ্ঞতা। আগামী বছর বড় পর্দায় মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে ছবিটির। এখন থেকেই এই পরিচিত জুটির নতুন প্রেমকাহিনি ঘিরে বাংলা চলচ্চিত্রপ্রেমীদের মধ্যে প্রত্যাশার পারদ ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী।








