কলকাতা, ২৬ অক্টোবর, ২০২৬: দৈনন্দিন রান্নায় বিশুদ্ধ মশলার গুরুত্ব এবং খাঁটি স্বাদের আবেদনকে সামনে রেখে নতুন দূরদর্শন বিজ্ঞাপন প্রচারাভিযান ‘Pure Masala. Sure Swaad.’ চালু করল পূর্ব ভারতের অন্যতম খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা গণেশ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড। এই প্রচারাভিযানে অভিনয় করেছেন বাংলার জনপ্রিয় অভিনেতা পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রাইমা সেন। ৩০ সেকেন্ডের বিজ্ঞাপনচিত্রটির মাধ্যমে সংস্থাটি বাঙালি পরিবারের দৈনন্দিন রান্নার সঙ্গে বিশুদ্ধ মশলা ও প্রকৃত স্বাদের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরতে চেয়েছে।
ওমনিকম অ্যাডভার্টাইজিং ইন্ডিয়ার অন্তর্গত টিবিডব্লিউএ\লিন্টাসের পরিকল্পনায় বিজ্ঞাপনচিত্রটি পরিচালনা করেছেন পীনাকি বসু। এই প্রচারের মূল লক্ষ্য হল ব্র্যান্ডের পরিচিতি বৃদ্ধি, আরও বেশি ক্রেতার কাছে পৌঁছনো এবং মশলার বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করা।
গণেশ স্পাইসেসের পণ্যসম্ভারে রয়েছে সিটিসি মশলা, গোটা মশলা এবং বিভিন্ন মশলার মিশ্রণ। এই বিভাগে সংস্থাটির ১০০টিরও বেশি পণ্য রয়েছে, যা বিভিন্ন অঞ্চলের খাদ্যাভ্যাস ও রন্ধনরুচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রস্তুত করা হয়। কাঁচা মশলা থেকে বিবর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ ও অবাঞ্ছিত উপাদান বেছে বাদ দেওয়ার জন্য সংস্থাটি উন্নত রং-বাছাই প্রযুক্তি ব্যবহার করে। পণ্যের বিশুদ্ধতা ও গুণমান বজায় রাখার এই প্রচেষ্টাকেই নতুন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে ক্রেতাদের সামনে তুলে ধরতে চায় সংস্থাটি।
বিজ্ঞাপনচিত্রটির অন্যতম আকর্ষণ জনপ্রিয় বাংলা গান ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’। পরিচিত ঘরোয়া রান্নাঘরের পটভূমিতে দেখা যায় রাইমা সেনকে রান্না করতে ও গানের সঙ্গে তাল মেলাতে। পরে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় সেখানে যোগ দেন। তাঁদের কথোপকথনে হাস্যরস ও মিষ্টি সম্পর্কের আবহ তৈরি হয়। শেষ পর্যন্ত রাইমা সেন বুঝিয়ে দেন, তাঁর প্রকৃত সঙ্গী গণেশ মশলাই। ‘Pure Masala. Sure Swaad.’—এই মূল বার্তাকে সামনে রেখেই শেষ হয় বিজ্ঞাপনচিত্রটি। পরিচিত গান, স্মৃতিমেদুর আবহ, খাদ্যসংস্কৃতি ও সম্পর্কের রসায়নকে একসূত্রে বেঁধে বাঙালি পরিবারের সঙ্গে আবেগের সংযোগ গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।
প্রচারাভিযান সম্পর্কে গণেশ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেডের অধিকর্তা দেবাংশ মিমানি জানান, মশলার বাজারে বৃদ্ধির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং সংস্থার দীর্ঘমেয়াদি ব্যবসায়িক পরিকল্পনায় এই বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পূর্ব ভারতকে কেন্দ্র করে ব্র্যান্ডের উপস্থিতি আরও শক্তিশালী করার পথে এই নতুন প্রচারাভিযান একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায় ও রাইমা সেনের জনপ্রিয়তা এবং বাঙালি সংস্কৃতির সঙ্গে তাঁদের পরিচিতি সংস্থাকে বাংলার পরিবারগুলির আরও কাছাকাছি পৌঁছতে সাহায্য করবে বলে তিনি আশাবাদী।
আগামী তিন বছরে বাজারে নিজেদের বিস্তার বৃদ্ধি, পণ্যের সম্ভার আরও সমৃদ্ধ করা এবং আঞ্চলিক স্বাদের মশলার ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনার উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে বলেও জানান মিমানি। বর্তমানে ১০০টিরও বেশি পণ্য নিয়ে গড়ে ওঠা মশলার সম্ভারকে আরও সম্প্রসারিত করার পাশাপাশি ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন স্বাদ ও রন্ধন-অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থার।
টিবিডব্লিউএ\লিন্টাসের পূর্বাঞ্চলীয় শাখাপ্রধান ইন্দ্রনীল মিত্রের বক্তব্য, মশলার বাজারে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত তীব্র এবং বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রেও অনেক সংস্থার উপস্থাপনার ধরন প্রায় একই রকম। সেই প্রেক্ষাপটে গণেশ স্পাইসেসের বিজ্ঞাপনকে স্বতন্ত্র করে তুলতে পরিচিত দুই অভিনেতার যুগল উপস্থিতি এবং শ্রোতাদের স্মৃতিতে গেঁথে থাকা বাংলা গানকে বেছে নেওয়া হয়েছে। পরমব্রত ও রাইমার পর্দার রসায়ন এবং ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ গানের স্মৃতিমেদুর আবেদন বিজ্ঞাপনটিকে আরও আকর্ষণীয় ও স্মরণীয় করে তুলবে বলে তাঁর আশা।
সংস্থাটির জ্যেষ্ঠ সৃজনশীল অধিকর্তা ত্রিতৃথা চট্টোপাধ্যায় জানান, প্রচলিত বিজ্ঞাপনের ছকে না বেঁধে দলটি ছোট ছোট চলচ্চিত্রের মতো মুহূর্ত নির্মাণের দিকে নজর দিয়েছে। খাবারের সঙ্গে মানুষের স্মৃতি, আবেগ ও পারিবারিক অভিজ্ঞতার গভীর সম্পর্ককে ভিত্তি করে কাহিনির মধ্যে রসিকতা এবং পরিচিত সাংস্কৃতিক অনুষঙ্গ যুক্ত করা হয়েছে।
মূলত পশ্চিমবঙ্গের বাঙালি পরিবারগুলিকে লক্ষ্য করে এই প্রচারাভিযান সাজানো হলেও বিভিন্ন বয়স ও আয়ের স্তরের ক্রেতাদের কাছে পৌঁছনোর পরিকল্পনা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ সংস্থাটির অন্যতম প্রধান বাজার হলেও ওড়িশা, বিহার, ঝাড়খণ্ড ও অসম-সহ পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলেও গণেশ স্পাইসেসের পণ্য পাওয়া যায়। সাধারণ খুচরো বিপণি, আধুনিক বিপণিকেন্দ্র, অনলাইন বাণিজ্য এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহকারী ডিজিটাল বিপণনমাধ্যমের সাহায্যে ক্রেতাদের কাছে পৌঁছচ্ছে সংস্থাটি।
গত ১০ অক্টোবর, ২০২৬ থেকে দূরদর্শন, ডিজিটাল মাধ্যম, সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই প্রচারাভিযান শুরু হয়েছে। বিজ্ঞাপনচিত্রটি দেখা যাবে https://youtu.be/GacRTKvFINo?si=xoHLw3hm5AR3L9yK লিঙ্কে।
কলকাতাভিত্তিক গণেশ কনজিউমার প্রোডাক্টস লিমিটেড একটি খাদ্যপণ্য প্রস্তুতকারী সংস্থা। বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জ এবং জাতীয় স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত এই সংস্থার পণ্যসম্ভারে রয়েছে আটা, ময়দা, সুজি, ডালিয়া, ছাতু, বেসন, মশলা, মিলেট, তাৎক্ষণিক খাদ্যপ্রস্তুতির মিশ্রণ এবং সয়াজাত পণ্য। খাদ্যপণ্যের গুণমান, বিশুদ্ধতা ও সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার উপর সংস্থাটি বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
কলকাতা, আগ্রা, বারাণসী ও হায়দরাবাদে সংস্থাটির মোট আটটি উৎপাদনকেন্দ্র রয়েছে। এই কেন্দ্রগুলির সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদনক্ষমতা ১,৪৭৮ টন। ৪৪টি পণ্যবিভাগে ২৫৬টি পণ্য নিয়ে গড়ে ওঠা সংস্থার বিপণনব্যবস্থায় রয়েছেন ১,০৭৬ জন পরিবেশক এবং ৩০টিরও বেশি পণ্য সংরক্ষণ ও বিতরণকারী সংস্থা। সারা দেশে সাড়ে তিন লক্ষেরও বেশি খুচরো বিক্রয়কেন্দ্র এবং ২০০টিরও বেশি আধুনিক বিপণিকেন্দ্রে পৌঁছেছে তাদের পণ্য।
নতুন সয়াবিনের বড়ি, মশলার আরও কয়েকটি প্রকার এবং প্যাকেটজাত মিষ্টির মতো পণ্য বাজারে আনার মাধ্যমে নিজেদের পণ্যসম্ভার সম্প্রসারণ করছে সংস্থাটি। পরিবর্তনশীল ভারতীয় খাদ্যবাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করার বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ এই উদ্যোগ।


