ঋদ্ধি ভট্টাচার্য, কলকাতা:দুর্গাপুজোর শিল্প, সৃজনশীলতা, ঐতিহ্য ও সামাজিক দায়বদ্ধতাকে স্বীকৃতি জানাতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত হল ‘দেবী দুর্গা সম্মান ২০২৬’। মোট ৫২টি দুর্গাপুজোকে বিচার-বিবেচনার আওতায় রেখে বিভিন্ন বিভাগে সেরাদের নাম ঘোষণা করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পূর্ণিমা চক্রবর্তী, রুদ্রনীল ঘোষ, কৌশিক বসাক, চিকিৎসক রাকেশ কুমার পাণ্ডা, পদ্মশ্রী সম্মানপ্রাপ্ত নারায়ণ চক্রবর্তী-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। বিভিন্ন বিভাগে পুরস্কার প্রাপকদের নাম ঘোষণার মধ্য দিয়ে দুর্গাপুজোর নানা সৃজনশীল দিককে সম্মানিত করা হয়। ‘সেরার সেরা’ বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করে সন্তোষ মিত্র স্কোয়ার। দ্বিতীয় স্থানে বৃন্দাবন গার্ডেন দুর্গাপুজো কমিটি এবং তৃতীয় স্থানে চোরবাগান সর্বজনীন।প্রতিমা নির্মাণের ক্ষেত্রে সেরার স্বীকৃতি পেয়েছে মুদিয়ালি ক্লাব। দ্বিতীয় তালা বারোয়ারি দুর্গোৎসব সমিতি এবং তৃতীয় বেহালা অরুণোদয় সমিতি। মণ্ডপ সজ্জার বিভাগে প্রথম আহিরিটলা সর্বজনীন, দ্বিতীয় ২৫ পল্লী ক্লাব, খিদিরপুর এবং তৃতীয় আমরা কজন কল্যাণ সমিতি। বিশেষ পুরস্কার বিভাগে প্রথম বডিগার্ড লাইন আবাসিক দুর্গাপূজা কমিটি, দ্বিতীয় শ্যাম স্কোয়ার, তৃতীয় ঠাকুরপুকুর স্টেট ব্যাংক সর্বজনীন এবং চতুর্থ সমাজসেবী সংঘ। সমাজ সচেতনতার বিভাগে প্রথম কাশী বোস লেন দুর্গাপুজো সমিতি, দ্বিতীয় বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন এবং তৃতীয় চক্রবেড়িয়া সর্বজনীন। আলোক সজ্জার বিভাগে প্রথম সন্তোষপুর অ্যাভিনিউ সাউথ, দ্বিতীয় বকুলবাগান সর্বজনীন দুর্গোৎসব এবং তৃতীয় শিবমন্দির সর্বজনীন দুর্গোৎসব। পরিবেশবান্ধব পুজোর বিভাগে প্রথম নলিন সরকার স্ট্রিট সর্বজনীন দুর্গোৎসব, দ্বিতীয় অ্যালেন পার্ক, পার্ক স্ট্রিট এবং তৃতীয় রাজডাঙা নবউদয় সংঘ। পুরস্কারের অর্থমূল্য হিসেবে ‘সেরার সেরা’ নির্বাচিত পুজোগুলিকে এক লক্ষ টাকা করে এবং অন্যান্য পুরস্কারপ্রাপক পুজো কমিটিগুলিকে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে দুর্গাপুজোর শিল্পভাবনা, নান্দনিকতা, পরিবেশ সচেতনতা ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতাকে আরও উৎসাহিত করার বার্তা উঠে আসে।

